
কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে : জান্নাতুল ফেরদৌস।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৪ কাপাসিয়া আসনে মোট প্রার্থী আটজন। তবে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেলারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ্ পুত্র শাহ রিয়াজুল হান্নান (ধানের শীষ) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মু. সালাহউদ্দিন আইউবী (দাঁড়িপাল্লা) এর মধ্যে।
অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) এনামুল কবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) মো. কাজিম উদ্দিন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (কাস্তে) মানবেন্দ্র দেব, আমজনতা দলের (প্রজাপতি) মো. জাকির হোসেন, এনপিপি’র (আম) মনির হোসোইন ও স্বতস্ত্র প্রার্থীর (ফুটবল) মেজর (অব.) মো. শফিউল্লাহ মিঠু। তবে এনপিপি’র (আম) প্রার্থী মনির হোসোইন বিএনপি’র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই আসনে ১১টি ইউনিয়নে ৯৯টি ওয়ার্ডে ১২২টি ভোট কেন্দ্র ও ৬৫৪টি ভোট কক্ষ রয়েছে। এখানে মোট ভোটার ৩,২৫,৫৫৬ জন, পুরুষ ভোটার ১,৬০,০০৭ জন, মহিলা ভোটার ১,৬৫,৫৪৯ জন। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত কাপাসিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ যথেষ্ট স্বাভাবিক রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবঃ আ স ম হান্নান শাহ্’র জন্মভূমি। বিগত দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের মাঝে ভোটের ব্যবধান ছিল গড়ে মাত্র ৫-৮ হাজার। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অংশগ্রহণ নাই। ফলে হান্নান শাহ্’র অনুপস্থিতিতে তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী শাহ্ রিয়াজুল হান্নান বিএনপি’র বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
অপর দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মু সালাহউদ্দিন আইউবী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা দু’জনেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এলাকার আনাচে-কানাচে, হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিন-রাত ভোট প্রার্থনা করেছেন। এ ছাড়াও নির্বাচনী কার্য পরিচালনার জন্য উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও প্রত্যেক এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের কমিটি রয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থীরাও তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন সাধ্যমতো। এই আসনে পূর্বে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো। এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ না থাকায় আওয়ামী লীগের ভোটারদের কদর বেড়েছে। আদর বেড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। সকল প্রার্থীর নজর আওয়ামীলীগ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশাল অঙ্কের ভোটারদের প্রতি। বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামীলীগের ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন প্রার্থীরা।
বিগত নির্বাচন থেকে দেখা যায়, এই আসনে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের বৃহৎ অঙ্কের ভোটার রয়েছে। তাদের রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী। সেই তুলনায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মী বাহিনী থাকলেও ভোটার সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। জামায়াতের প্রার্থীর ভরসা অনেকটা আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র গোপন ভোটারদের ওপর।