এক বছরের কারাদণ্ডের অধ্যাদেশ জারি করল আইন লঙ্ঘন কারী,এক ট্রাভেল এজেন্সিকে।
Reporter Name
Update Time :
শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
৩২০
Time View
দৈনিক কাপাসিয়া বার্তাঃ
বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ সংশোধনের লক্ষ্যে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ট্রাভেল এজেন্সি আইন লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, অফলাইন ও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির কার্যক্রমে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা, টিকিটের ন্যায্যমূল্য বজায় রাখা, আকাশপথে পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ যাত্রী ও অভিবাসী কর্মীদের বিদেশগমনের ক্ষেত্রে হয়রানি রোধের স্বার্থে ২০১৩ সালের করা এই আইনটি সংশোধন প্রয়োজন। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংসদ ভেঙে যাওয়ায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকায় সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেন। অধ্যাদেশটির সংক্ষিপ্ত নাম ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’। এটি জারির সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে। ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনের বিধান থাকলেও এই আইনের বিধানই প্রাধান্য পাবে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আকাশপথে ভ্রমণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না, মিথ্যা প্রলোভন বা প্রতারণা করা যাবে না এবং অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। একই সঙ্গে ট্রাভেল এজেন্সির ঠিকানায় রিক্রুটিং এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সরকার নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যমেই লেনদেন করতে হবে—এ মর্মে হলফনামা দিতে হবে। নতুন সংযোজিত বিধান অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের নামে ট্রাভেল এজেন্সি থাকলে এজেন্সির নাম, নিবন্ধন নম্বর, মালিকের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ছবি, উত্তরাধিকার সনদ, অর্থের উৎস, চূড়ান্ত উপকারভোগী মালিকের নাম, ব্যাংক হিসাব এবং স্বার্থ নিরপেক্ষ লেনদেন অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার তথ্য জমা দিতে হবে। এ ছাড়া অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি ১০ লাখ টাকা এবং অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি টাকা।ট্রাভেল এজেন্সিকে প্রতি বছর আর্থিক বিবরণীসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারের কাছে দাখিল করতে হবে। প্রতিবেদন সন্তোষজনক হলে প্রতি তিন বছর পরপর নিবন্ধন সনদ নবায়ন করা যাবে। অধ্যাদেশে অবৈধভাবে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম, অ্যাপ, পোর্টাল বা ডিজিটাল টিকিট ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল ব্যবহার, লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড শেয়ার, অন্য এজেন্সি থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয়, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে টিকিটের দাম বাড়ানো, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বুকিং, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন, অগ্রিম অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিবাসী কর্মী ও বিএমইটি কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে উৎস ও গন্তব্য দেশ ছাড়া তৃতীয় কোনো দেশ থেকে টিকিট কেনাবেচা, গ্রুপ বুকিংয়ে টিকিট কনফার্মের পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন এবং একত্রে অর্থ পরিশোধও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে এয়ারলাইন্স বা তাদের কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা এবং টিকিটে এজেন্সির নাম, নিবন্ধন নম্বর ও মূল্য উল্লেখ না থাকলেও তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে শুনানি ছাড়াই সাময়িকভাবে কোনো ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদ স্থগিত করতে পারবে সরকার। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, আইন বা বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন এবং সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া প্রতারণা বা দুর্নীতিসংশ্লিষ্ট জরুরি পরিস্থিতিতে আকস্মিক দেশত্যাগ রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিতে পারবে এবং তা মানতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবে।