টেকসই রেটিংয়ে স্থান পাওয়া ১২ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) আনুষ্ঠানিক সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সেরা টেকসই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আগে ইংরেজি আদ্যক্ষরের ভিত্তিতে টেকসই রেটিংয়ের তালিকা প্রকাশ করা হতো।
র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে টেকসই রেটিংয়ে সেরা ব্যাংক নির্বাচিত হয়েছে বেসরকারি খাতের দেশীয় মালিকানাধীন সিটি ব্যাংক। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্র্যাক ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। চতুর্থ থেকে দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টেকসই রেটিংয়ের শীর্ষে রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
টেকসই খাতে অর্থায়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম, পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়ন, টেকসই কোর ব্যাংকিং, ব্যাংকিং সেবার পরিধি—এই পাঁচটি মূল সূচকের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই রেটিংয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি ২০২৪ সালের কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে নানা সূচকে মূল্যায়নের মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় ১০টি ব্যাংক ও ২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে।
জানা যায়, পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে টেকসই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও আইডিএলসি। এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ কম, মুনাফায়ও শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া নানা সূচকে এসব প্রতিষ্ঠান ঈর্ষণীয় অবস্থানে রয়েছে, যা তাদের টেকসই তালিকায় অবস্থান করে নিতে সহায়তা করেছে। এবার টেকসই ব্যাংকের তালিকায় দ্বিতীয়বারের মতো স্থান পেয়েছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক বছর ধরে এই তালিকা প্রকাশ করে আসছে। টেকসই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এই তালিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ।
টেকসই রেটিংয়ে স্থান পাওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের হাতে আজ বুধবার সম্মাননা ও ক্রেস্ট তুলে দেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এই উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার। তালিকায় থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁরা গভর্নরের হাতে থেকে সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।
পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়নের সুফল পাচ্ছে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ধরনের অর্থায়ন প্রকল্পগুলো একদিকে পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর, অন্যদিকে সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল। কিছু প্রকল্প পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আর্থিক সংকট ও অর্থনীতিতে নানা অস্থিরতার মধ্যেও টেকসই অর্থায়ন প্রকল্পগুলো ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। ফলে এ খাতে ঋণ বাড়ছে, সঙ্গে গ্রাহকও।
ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টেকসই রেটিংয়ে শীর্ষ স্থানে রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ জাভেদ নুর। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যাংকিং-সংক্রান্ত নানা সূচকের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হয়েছে এবারের রেটিংয়ে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তালিকা আর্থিক খাতের জন্য বেশ অর্থপূর্ণ। এই তালিকার ভিত্তিতে সাধারণ গ্রাহকেরা ভালো-খারাপ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য সহজেই যাচাই করতে পারবেন। এই তালিকা গ্রাহকদের আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে। আইডিএলসি পঞ্চমবারের মতো এই সম্মাননা পেয়েছে। আমরা নিজেদের এই অবস্থান ধরে রাখতে ভবিষ্যতে টেকসই অর্থায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের উন্নয়নে আরও বেশি সচেষ্ট থাকব।







